অনলাইন ডেস্ক-
কুষ্টিয়ায় ব্হুতল ভবনের পার্কিং থেকে ভারতে নিহত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের কোটি টাকার ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ব্র্যান্ডের গাড়িটির সন্ধান মিলেছে বলে জানা গেছে। এসময় গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের ৮ তলা বিশিষ্ট সাফিনা টাওয়ার নামে একটি ভবনের গ্যারেজে ঐ গাড়িটি পার্কিং করা ছিলো। কালো কালারের ঐ গাড়িটির রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ‘ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৬০৬০’।
পুলিশ ধারণা করছে, গাড়িটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিহত আনোয়ারুল আজীম আনারের।
জানা গেছে, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন প্রতিবেদককে জানান, গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে গাড়িটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ঐ পুলিশ অফিসার। তিনি বলেন, গাড়িটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হবে।
এবিষয়ে স্থানীয়রা জানান, জেনুইন লিফ কোম্পানি নামে একটা সিগারেট কোম্পানি ঐ ভবনের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলা ভাড়া নিয়েছে। গাড়িটা কয়েকমাস ধরে এখানে রাখা হয়েছে।
বাসার দেখভালের দায়িত্বে থাকা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, জেনুইন লিফ কোম্পানি নামে একটা সিগারেট কোম্পানি ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলা বাসা ভাড়া নিয়েছে। সেখানে বিদেশিরা আসেন, থাকেন এবং খাওয়া-দাওয়া করেন। জেনুইন লিফ কোম্পানির বেলাল স্যার জিএম আর জাহিদ স্যার সিইও। এর বেশি আমরা কিছুই জানি না।
গাড়িচালক শান্ত বলেন, আজ থেকে ৫ বছর আগে আমি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগার আলীর গাড়ির ড্রাইভার ছিলাম। এখন আর নেই। আমি জেনুইন লিফ কোম্পানির গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করি। জিএম স্যার বেলাল ও সিইও জাহিদ স্যারের গাড়ি চালাই। তারা দুজন আমাকে চাবি দিয়ে গাড়ি স্ট্যার্ট দিতে বলেন। জেনুইন লিফ টোব্যাকোর বেলাল ও জাহিদ স্যারের হুকুমে আমি স্ট্যার্ট দিয়েছি। গাড়ির মালিক কে? তা আমি জানি না। বেলাল স্যার আর জাহিদ স্যার সব কিছু জানেন। তাদের হুকুমে গাড়ি স্ট্যার্ট দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গাড়ি থেকে পুলিশ কাগজপত্র, লাইসেন্স ও স্টিকার উদ্ধার করেছে। সেখানে গাড়ির মালিকের নাম লেখা আছে। এই গাড়িটি আমি কখনো চালাইনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাফিনা টাওয়ারের মালিক, জেনুইন লিফ টোব্যাকোর সিইও জাহিদ ও জিএম বেলালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানা পত্রে আনোয়ারুল আজীম আনারের নাম উল্লেখ রয়েছে। সাফিনা টাওয়ারের ফ্ল্যাট মালিক ও ভাড়াটিয়ার চুক্তিপত্র অনুযায়ী মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভার বাঁশবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ভবনের তিনটি ইউনিট ও তিনটি গাড়ির পার্কিং স্পেস ভাড়া নেন। গাড়িটি বর্তমানে মুস্তাফিজুর রহমানের পার্কিং স্পেসে রয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ভাড়া নিয়েছেন তিনি। মুস্তাফিজুর রহমান কুষ্টিয়ার দশ মাইল এলাকায় অবস্থিত ‘তারা টোবাকো’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার বলে সুত্র মতে জানা গেছে।