ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
গণঅধিকার পরিষদের কেদ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মােঃ রাশেদ খাঁন বলেছেন, চুনাপুটিদের নয়, খুনি শেখ হাসিনা, ওবাইদুল কাদের, কামাল ও শামীম ওসমানদের মত নেতাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝুলাতে হবে। এ নিয়ে জাতি কােন টালবাহানা সহ্য করবে না। প্রয়ােজন হলে আরাে ১০টি ট্রাইব্যুনাল বসাতে হবে। টাকা না থাকলে জনগন টাকা দিবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জােন কমিউনিটি সেন্টারে ২০১৮ সালের “কােটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
এবং একটি সফল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার করণীয় শীর্ষক” এক আলাচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চলমান সংস্কার, খুনিদের বিচার ও দেশের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ড. ইউনুস সরকার হাসিনার পরামর্শে দেশ চালাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশ থেকে মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের বিলাপ হবে না।
ঝিনাইদহ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত হােসেনের সভাপতিত্বে আলােচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল জাহিদ রাজন, যুব অধিকারের সভাপতি রাকিবুল হাসান রকিব, যুবনেতা মােঃ মিশন আলী, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদ মােঃ রায়হান হােসেন রিহান, মােঃ মাহাফুজ রহমান, মােঃ হালিম পারভেজ ও নাহিদ প্রমুখ।
তিনি এনসিপির সমালাচনা করে বলেন, এই দলটি সরকারের পৃষ্ঠপােষকতা পাচ্ছে। এটা আমার কথা নয়, টিআইবি প্রধান তাদের কিংস পার্টি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাছাড়া এনসিপি সমর্থিত দুই উপদেষ্টা পদ নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। তারপরও হাসনাত আব্দুল্লারা ড. ইউনুস সরকারের সমালােচনা করছেন। তাদেরও ভুল ভাঙ্গতে বসেছে।
বক্তারা বলেন, যারা হাসিনার মতাে স্বৈরশাসককে পরাজিত করতে পেরেছে, তারা আজ নানা কলংকের তিলক মাথায় নিচ্ছে। চাঁদাবাজীতে লিপ্ত হচ্ছেন। মানুষ ও সমাজের কাছে এইসব বীরেরা ঘৃনিত হচ্ছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ছাত্রদের কলংকিত করলাে কারা ?
বক্তারা আরো বলেন, প্রত্যেক উপদেষ্টা দুর্নীতি করছেন। তারা আখের গােছাতে ব্যস্ত। ডিসি নিয়ােগ থেকে শুরু করে সব কিছুতেই দুর্নীতির ছাঁয়া লেগে আছে। ১৬ বছর বিএনপি-জামায়াতের তকমা লাগানাে আমলারা এখনাে নির্যাতিত ও পদ বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযাগ করেন বক্তারা।
জুলাই সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাসেদ খান বলেন, যে সরকার শহীদদের তালিকা তৈরী করতে পারে না, তাদের কাছ থেকে জাতি কি আশা করতে পারে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তদন্তে হত্যার সংখ্যা ১৪’শ কিন্তু জুলাই সনদে সংখ্যা ১ হাজার করা হলাে। এটা কেন এবং কিভাবে হলাে ?
তিনি গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে মাঠে থাকা ও এক সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, মাঠে না থাকলে আ’লীগ মাঠ দখল করে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যে তারা এমন ষড়যন্ত্র করে বসে আছে। তাই সবাই কােন না কােন কর্মসুচি নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে। ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি নানা ছুতােয় নির্বাচন করতে চাইবে। তাদেরকেউ প্রতিহত করতে হবে। কারণ তারাও হাসিনার উচ্ছিষ্ট ভোগি। ডামি, বা যেকােন নামে তাদের নির্বাচন করার সুযােগ নেই।
এসময় তিনি ১৪, ১৯ ও ২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ডিসি, এসপি ও ইউএনওদের বিচার দাবী করেন।