পরোকিয়ায় আসক্ত হয়ে স্ত্রী সন্তানের খোঁজ খবর না নেওয়া, অধিকার চাইতে গেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সাবেক চেয়ারম্যান কবির হোসেনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
পরোকিয়ায় আসক্ত হয়ে স্ত্রী সন্তানদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ও ভরন-পোষন না দেওয়ার প্রতিবাদে সাবেক চেয়ারম্যান কবির হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় প্রেস ক্লাব ঝিনাইদহ জেলা শাখার কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কবির হোসেনের স্ত্রী সাথী খাতুন।
এসময় সাথী খাতুনের বাবা আতিয়ার রহমান, মা ফেরদোহী খাতুন, ভাবি এবং দুই সন্তান সিফাত (১১) ও সানভি (৩) উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে সাথি খাতুন বলেন, বিগত ২০১১ সালে কবির হোসেনের সাথে শরিয়ত মোতাবেক পারিবারিক ভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ১ বছর পর তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ৫ বছরের মাথায় কবির হোসেন আমার সাথে কারণে-অকারণে দুর্ব্যবহার করতে থাকে। এই অস্বাভাবিক কার্যক্রম আমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হলে আমি তার কারণ খুঁজতে থাকি। এক পর্যায়ে তার মানি ব্যাগে একটি মেয়ের ছবি এবং ছবির পেছনে ভালোবাসার কিছু কল্প কাহিনী লিখা দেখতে পায়। এরপর থেকে আমার সন্দেহ তীব্র থেকে আরো তীব্রতর হয়। এছাড়াও আমার স্বামীর মোবাইলে ঐ মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কেক খাইয়ে দেওয়ার ছবি দেখতে পায়। বিষয়টি জানতে চাইলে আমার স্বামী জানায়, আমি চেয়ারম্যান মানুষ আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়। সেই সুত্র ধরে ছবি থাকতেই পারে। সাথি খাতুন বলেন, এরপর থেকে আমার উপর আরো নির্যাতন বেড়ে যায় এবং গায়েও হাত তোলে। তিনি বলেন, এরপর থেকে আমি ঐ মেয়েটির গোপনে খোঁজ নিতে থাকি। খোঁজ নিয়ে দেখতে পায় মেয়েটি একই ইউনিয়নের ডাকাতিয়া গ্রামের শ্রী লব বিশ্বাসের মেয়ে রিয়া বিশ্বাস। এরপর ঐ মেয়ের সাথে যোগাযোগ করলে মেয়েটি আমার কাছে আরো কিছু ছবি দেয় যা কবির হোসেনের সাথে করা অসামাজিক ছবি। যা আমার কাছে রক্ষিত আছে।
সাথী খাতুন আরো বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আমার স্বামী জীবনের নিরাপত্তার কথা বলে ঝিনাইদহ শহরে বাসা নেয়। সেখানে আমাকে না নিয়ে বাঘুটিয়া গ্রামে তার বাবা মায়ের কাছেই থাকতে বললে আমি সেখানেই থাকি। এরমাঝে আমাদের অজান্তেই আবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। কিন্তু এই সন্তান কবির হোসেনের ঔরসের না বলে আমাকে অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করতে থাকে। বর্তমান আমার ছোট ছেলের বয়স ৩ বছর। আমার স্বামী চেয়ারম্যান কবির হোসেনের নির্যাতন সইতে না পেরে ও কোন খোঁজ খবর না নেওয়া, ভরণ পোষণ না দেওয়ায় গত মাস তিনেক হলো দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আছি। বর্তমান তিনি আমার স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়া ও সন্তানদের ভরণ-পোষণ না দেওয়ায় দূর্বিসহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। যে কারণে চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।